১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি
রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলজুড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও সূর্যের অনুপস্থিতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
গত দুই সপ্তাহে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৬ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে ৭ জন বয়স্ক ও ৯ জন শিশু। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, কোল্ড ডায়রিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
টানা কয়েক দিন ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। এর মধ্যেই চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে—৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে সর্বনিম্ন। চুয়াডাঙ্গায় ৭.৫ ডিগ্রি, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮.৫ ডিগ্রি এবং পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা আজও অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা কেটে গিয়ে সূর্যের দেখা মিলছে। এতে আজ ও আগামীকাল দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে এবং শীতের তীব্রতা সাময়িকভাবে কমতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে আবার তাপমাত্রা কমে শীত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও সতর্ক করেছে, আজ ও আগামীকাল মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে দুই শতাধিক এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় ৩০০ অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। কুড়িগ্রামেও পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দিয়েছে বিজিবি।
দেশের বিভিন্ন জেলায় শীতজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গাসহ একাধিক জেলায় হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। অন্যদিকে গাইবান্ধায় টানা কুয়াশা ও সূর্যের অনুপস্থিতিতে বোরো মৌসুমের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।