যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবুধাবির প্রভাবশালী রাজপরিবারের সদস্য শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে ট্রাম্প পরিবার তাদের ক্রিপ্টো কোম্পানি ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল–এর প্রায় ৪৯ শতাংশ শেয়ার ৫০ কোটি ডলারে বিক্রি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ গ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে এই গোপন চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। চুক্তির প্রথম ধাপে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়, যার বড় একটি অংশ সরাসরি ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গেছে। এই চুক্তিতে ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে দাবি করা হয়েছে।
শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-শাসক এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি আবুধাবির প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল তদারকি করেন। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণে পশ্চিমা গণমাধ্যমে তিনি ‘স্পাই শেখ’ নামে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তের সময়গত মিল নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ উন্নতমানের মার্কিন এআই চিপ ব্যবহারের অনুমতি দেয়—যা আগের বাইডেন প্রশাসন নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে অনুমোদন দেয়নি।
এদিকে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল একটি বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক প্ল্যাটফর্ম, যা নিজস্ব স্টেবলকয়েন পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে স্বার্থসংঘাত ও নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (SEC) একটি তদন্তও আগে বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চুক্তির আওতায় শেখ তাহনুন-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এখন ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়ালের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদেও আমিরাতি প্রতিনিধিরা জায়গা পেয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ও কোম্পানির মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, এই বিনিয়োগের সঙ্গে মার্কিন সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই এবং সবকিছু আইন মেনেই করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট পরিবারের সঙ্গে বিদেশি সরকারের ঘনিষ্ঠ বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।