সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করছে সরকার—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বিষয়টি জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতীতে বাংলাদেশের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়মের সুযোগ নিয়ে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে গেছেন। সে সময় হাতে লেখা পাসপোর্ট চালু থাকায় এবং দুর্নীতির কারণে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
তিনি বলেন,
“অনেক বছর আগে, যখন হাতে লেখা পাসপোর্ট ছিল, তখন আমাদেরই ত্রুটির কারণে প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছে। এখন সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে।”
তৌহিদ হোসেন আরও জানান, সরকার শুরুতে এ সিদ্ধান্ত এড়াতে চেষ্টা করলেও কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের কারণে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
“আমরা চেষ্টা করেছিলাম যাতে এটা না করতে হয়। কিন্তু অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে—এই ৬৯ হাজার মানুষকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
পাসপোর্ট মানেই নাগরিকত্ব নয়
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন,
“পাসপোর্ট দেওয়া মানেই কাউকে বাংলাদেশের নাগরিক বানিয়ে দেওয়া নয়। পৃথিবীর বহু দেশে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অন্য দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি দেওয়া হয়। এখানেও বিষয়টি সেভাবেই দেখা উচিত।”
তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তকে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ইস্যু হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য এড়ালেন তৌহিদ হোসেন
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তিনি বলেন,
“আমরা জানি না ভবিষ্যতে কে ক্ষমতায় আসবে এবং কী সিদ্ধান্ত নেবে। আগেভাগে অনুমান করে মন্তব্য করার কোনো মানে নেই। যিনি ক্ষমতায় আসবেন, তিনি তখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবেন।”