ফরিদপুর: ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে নগরবাউল জেমসের কনসার্টকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গান না গেয়েই কড়া নিরাপত্তায় মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হন জেমস। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সেদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক শ্রাবণ্য তৌহিদা।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
শ্রাবণ্য তৌহিদা জানান, অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ব্যান্ড ওয়ারফেজের পারফরম্যান্স সফলভাবে শেষ হলেও দ্বিতীয় দিনে বিপত্তি ঘটে। জেমস মঞ্চে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে দর্শকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রাবণ্য বলেন:
“আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে জেমস ভাইকে মঞ্চে ডাকার কথা ছিল। তিনি যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই মঞ্চে আমার সামনে একটি বড় ইট এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়।”
রণক্ষেত্রে পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় ১৫ থেকে ২৫ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শত শত মানুষ দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকতে শুরু করে।
শ্রাবণ্য তৌহিদার বর্ণনা অনুযায়ী:
- বাইরে থেকে আসা ভিড় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে।
- ফরিদপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
- ইটের আঘাতে প্রায় ১৫-২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের অনেকের মাথায় গুরুতর চোট লাগে।
- আতঙ্কিত অবস্থায় আয়োজকরা উপস্থাপিকা ও শিল্পীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
জেমসের প্রস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তারক্ষীরা জেমসকে ঘিরে ধরে দ্রুত গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অনিশ্চয়তার পর আয়োজক কমিটি অনুষ্ঠানটি পণ্ড ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
শ্রাবণ্য তৌহিদা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “শিল্পী হিসেবে আমরা পারিশ্রমিক পেলেও দর্শকদের যে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা যেভাবে আহত হয়েছে, তা কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।”