যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–র পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় বিদায় ও শোক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তেহরানে তিন দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক জটিলতার কারণে কর্মসূচি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রাজধানীর নির্ধারিত বিশাল প্রাঙ্গণে লাখো মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রস্তুতির পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের নেতার শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই বিশাল জনসমাগম নিরাপদভাবে সামাল দিতে আয়োজকদের অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
এর আগে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে এক বৈঠকের সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন খামেনি। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। রাজধানীর প্রধান সড়ক, ময়দান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কালো ব্যানার ও শোকবার্তা টানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট স্মরণসভা আয়োজন করছেন।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১০টায় অনুষ্ঠান শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও বিশাল জনসমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তবে নতুন করে কবে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে—সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ইসরায়েলি স্থাপনা ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।